শেরপুরের সেই সুরাইয়া এবার পায়ে লিখে ঢাবির ভর্তিযুদ্ধে নেমেছে

শেরপুরের সেই সুরাইয়া এবার পায়ে লিখে ঢাবির ভর্তিযুদ্ধে নেমেছে
সর্বমোট পঠিত : 140 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

অদম্য সুরাইয়া ২০১৮ সালে শেরপুর সরকারী ভিক্টোরিয়া একাডেমীতে পায়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। তখন একবার তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে লেখালেখি হয়। ওই বছরের এসএসসিতে জিপিএ ৪.১১ এবং ২০২০ সালের এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলা আন্ধারিয়া সুতিরপাড়। বাবা মাওলানা মো: ছফির উদ্দিন শেরপুর সদেরর আন্ধারিয়া সুতিরপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার।

ইচ্ছা থাকলে কোন বাধাই আটকিয়ে রাখতে পারে না কাউকে। তেমনি এক নজির স্থাপন করলো সুরাইয়া নামের এক প্রতিবন্ধী। তার  স্বপ্ন পূরণের জন্য পা দিয়ে লিখে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন অদম্য শেরপুরের সেই সুরাইয়া জাহান। অকেজো হাত, অস্পষ্ট ভাষা, চোখের ইশারায় ভাববিনিময় করা সুরাইয়ার স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। তাইতো কোনো প্রতিবন্ধকতাই সুরাইয়াকে দমাতে পারেনি। অন্য সব শিক্ষার্থীর মতো চেয়ার-বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিতে না পারলেও তিনি অংশ নিয়েছেন ভর্তিযুদ্ধে। সেই প্রমাণও মিলল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়ময়সিংহ বিভাগের কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)।

শনিবার (০২ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে মাকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর থেকে বাকৃবির কেন্দ্রে আসেন সুরাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের ল্যাবরেটরির কক্ষের মেঝেতে বসে পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩৫ জন।

সুরাইয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।  

অদম্য সুরাইয়া ২০১৮ সালে শেরপুর সরকারী ভিক্টোরিয়া একাডেমীতে পায়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। তখন একবার তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে লেখালেখি হয়। ওই বছরের এসএসসিতে জিপিএ ৪.১১ এবং ২০২০ সালের এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলা আন্ধারিয়া সুতিরপাড়। বাবা মাওলানা মো: ছফির উদ্দিন শেরপুর সদেরর আন্ধারিয়া সুতিরপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার।

সুরাইয়ার মা মুর্শিদা ছফির বলেন, তিন মেয়ের মধ্যে সুরাইয়া প্রথম। মেয়েটা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। কিন্তু আমি কখনই সেটার জন্য মন খারাপ করিনি। মেয়েকে নিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনের গল্পটাও সংগ্রামের। আমি চাই যে আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তার এগিয়ে যাওয়ার পথে সঙ্গী হয়ে থাকব। আমার আশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেয়ে উত্তীর্ণ হবে এবং একদিন বড় অফিসার হবে। এ জন্য তিনি সরকারের সু দৃষ্টি কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ছাড়াও ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।



মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি