ভূমিকম্প

সিলেটে ৯ দিনের মধ্যে আবার ভূমিকম্প

সিলেটে ৯ দিনের মধ্যে আবার ভূমিকম্প
সর্বমোট পঠিত : 19 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সিলেটে ৯ দিনের মধ্যে আবারও দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট ও ৬টা ২৯ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। ভূমিকম্পে নগরজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২৯ মে সকাল ১০টা ৩২ মিনিট, ১০টা ৪৭ মিনিট, বেলা সাড়ে ১১টা, ১১টা ৩৭ মিনিট এবং দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়। প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের জৈন্তাপুর।


ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মুমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘টানা পাঁচবারের মধ্যে ৪ দশমিক ১, ৪, ৩ এবং ২ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক মৃদু কম্পনের মাত্রা মাপা যায়নি।’


২৯ মে ভূমিকম্পের পর থেকেই সিলেটজুড়ে ভূমিকম্প আতঙ্ক বিরাজ করছে।


অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভূমিকম্পের ডেঞ্জারজোন হিসেবে পরিচিত সিলেটে বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


গত ভূমিকম্পের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি বহুতল বিপণিবিতান ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগরের বহুতল ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কি না তা জরিপ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ২০১৬ সালে সর্বশেষ সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ব্যাপারে জরিপ চালানো হয়েছিল। এতে ৩২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গত ২৯ মের ভূমিকম্পের পর এই ভবনগুলোর মধ্যে ৭টি বাণিজ্যিক ভবন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘সিলেটে প্রায় ৭০ হাজার হোল্ডিং আছে। এর মধ্যে সাততলার ওপরে ভবন আছে অন্তত ৪০০। তবে সিটি করপোরেশনের হিসাবের বাইরেও আরও অনেক বহুতল ভবন আছে। এখন আবার বহুতল ভবনগুলোর ব্যাপারে জরিপ চালানো উচিত।’


নুর আজিজ বলেন, ‘নগরের বহুতল ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কি না তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা শিগগিরই উদ্যোগ নেব। সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আমাদের পক্ষে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। তবে যে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় নয়, সেগুলোর সামনে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেব।’


বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেটে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নগরীর সব ভবনকে ভূমিকম্প প্রতিরোধক করা। এ জন্য নতুন ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির ধরনের ওপর নির্ভর করে ভবনকে একতলা বা বহুতল করতে হবে। জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না।


ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইনে ও মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দালান তৈরি করতে হবে। আর পুরোনো দুর্বল ভবনগুলোকে সংস্কার করে শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। সম্ভব না হলে ভেঙে ফেলতে হবে। বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে কোনো অবস্থাতেই ভবন নির্মাণ করা যাবে না।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি