সে দিন শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিলেন পরীমণি, অভিযোগপত্রে পুলিশ

সর্বমোট পঠিত : 89 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

এই টাকাও পরিশোধ করতে হবে ভেবে তুহিন কৌশলে নাসিরকে দিয়ে বলান, এই মদের বোতলটি ক্লাবের ‘স্যাম্পল’ (নমুনা)। এটা পার্সেল দেওয়া যাবে না। একপর্যায়ে নাসিরের সঙ্গে পরীমণির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তখন পরীমণিকে তর্কে না জড়াতে অনুরোধ করেন তার সঙ্গে থাকা জিমি ও ফাতেমা। তখন খেপে গিয়ে তাদের থাপ্পড় মেরে পরীমণি বললেন, ‘আমি কি ড্রাঙ্ক?’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বোট ক্লাবের ঘটনার পর। ঢাকা বোট ক্লাবের সেই দিনের ঘটনায় তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার ও মারধরও করা হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। প্রায় তিন মাস তদন্তের পর এ মামলায় আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে পুলিশ একথা বলছে।

পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ৮টায় পরীমণির বাসায় আসেন তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ জিমি। এরপর জিমি মোবাইল ফোনে পরীমণির সহকারী তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমির সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১০টার সময় কিছু খাবার নিয়ে পরীমণির বাসায় হাজির হন তুহিন। পরে পরীমণি, তুহিন, জিমি এবং ফাতেমাতুজ জান্নাত (পরীমণির পরিচিত) একসঙ্গে বাসায় খাওয়াদাওয়া করেন। রাত সাড়ে ১১টার সময় তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। তবে তুহিন কৌশলে পরীমণিদের রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বোট ক্লাবে নিয়ে যান। পরীমনিকে বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়ার তথ্য তুহিন আগেই ব্যবসায়ী নাসিরকে জানিয়ে রাখেন। তাদের জন্য একটি টেবিল প্রস্তুত করতে বোট ক্লাবের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিমকে বলেন নাসির। ক্লাবে ঢোকার পর পরীমণি ও তার সঙ্গীদের যে টেবিলে বসানো হয়, তার সামনে একটি টেলিভিশন ছিল। ক্লাবে ঢোকার পর নাসির ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলমের সঙ্গে পরীমণির পরিচয় করিয়ে দেন তুহিন। পরিচয়ের কিছুক্ষণ পর হাফপ্যান্ট পরে ক্লাবে আসা নিয়ে পরীমণির কস্টিউম ডিজাইনার জিমির সঙ্গে শহিদুলের কথা-কাটাকাটি হয়।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ক্লাবে অবস্থান করার সময় পরীমণি, তুহিনসহ অন্যরা দুই বোতল মদ (ব্লু লেবেল) পান করেন।  অন্য টেবিলে বসে তখন মদ পান করেন নাসির ও শহিদুল। রাত সোয়া একটার দিকে নাসির ও শহিদুল ক্লাব থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে তুহিন ও পরীমণি তাদের আবার বারে ডেকে নেন। পরে একসঙ্গে তারা মদ পান করেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, নাসিরসহ অন্যদের সঙ্গে মদ পানের পর একপর্যায়ে পরীমণি ক্লাবের ব্লু লেবেলের ছয় বোতল মদ নিতে চান। তখন ক্লাবের খাবার সরবরাহকারী আসাদুজ্জামান পরীমণিকে বলেন, একটি তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদের বোতল রয়েছে।  পরে তিনি ওই মদের বোতল পরীমণির হাতে দেন।  পরীমণির সঙ্গে থাকা ফাতেমাতুজ জান্নাতও ক্লাব থেকে দুই বোতল মদ (রেড ওয়াইন) কেনেন। এর দাম ছিল ৮৮ হাজার ৬১০ টাকা। এই টাকা পরিশোধ করেন অমি। তবে পরীমণি যে তিন লিটারের মদের বোতল নিয়েছিলেন, সেটির দাম ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

এই টাকাও পরিশোধ করতে হবে ভেবে তুহিন কৌশলে নাসিরকে দিয়ে বলান, এই মদের বোতলটি ক্লাবের ‘স্যাম্পল’ (নমুনা)। এটা পার্সেল দেওয়া যাবে না। একপর্যায়ে নাসিরের সঙ্গে পরীমণির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তখন পরীমণিকে তর্কে না জড়াতে অনুরোধ করেন তার সঙ্গে থাকা জিমি ও ফাতেমা। তখন খেপে গিয়ে তাদের থাপ্পড় মেরে পরীমণি বললেন, ‘আমি কি ড্রাঙ্ক?’

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরীমণির সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর তুহিনের উদ্দেশে নাসির বলেন, ‘এ রকম...(মানহানিকর শব্দ) মেয়েকে কেন ক্লাবে নিয়ে এসেছ?’ এ সময় নাসিরকে বাধা দেওয়া এবং এ ঘটনার ভিডিও করার চেষ্টা করেন জিমি। তখন নাসিরের সহযোগী শহিদুল জিমিকে থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনা দেখে পরীমণি খেপে গিয়ে টেবিলের ওপরে থাকা গ্লাস, বোতল ও অ্যাশট্রে নাসিরের দিকে ছুড়ে মারেন। তবে নাসির সরে যাওয়ায় তার শরীরে লাগেনি। এরপরই পরীমণির উদ্দেশে অশ্লীল গালিগালাজ শুরু করেন নাসির ও শহিদুল। দুজনেই পরীমণিকে মারধর (থাপ্পড়) মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন এবং ভয়ভীতি দেখান। রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নাসির ও শহিদুল ক্লাব ছেড়ে চলে যান। এরপর ক্লাবের কর্মচারীরা পরীমণিসহ অন্যদের ক্লাব থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তিনি সেখানে বসে ছিলেন। এ সময় ক্লাবের কিছু লাইট, এসি ও ফ্যান বন্ধ করে দেন কর্মচারীরা। তখন পরীমণির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।  পরে লাইট ও ফ্যান ছেড়ে দেওয়া হয়। রাত দুইটার দিকে পরীমণি ও তার সঙ্গীরা ক্লাব ছেড়ে চলে যান।

পরীমণির আইনজীবী মজিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, পুলিশ অভিযোগপত্রে কী লিখেছে, এখনও জানেন না তারা। শিগগিরই অভিযোগপত্রের অনুলিপি পেতে তারা আদালতে আবেদন করবেন।

গত ১৪ জুন ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে পরীমণি সাভার থানায় মামলা করেন।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি