জোরপূর্বক বিয়ে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার ১

সর্বমোট পঠিত : 41 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছে, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে এবং বাকী আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কলেজ ছাত্রীকে (১৯) জোরপূর্বক বিয়ে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা মোছাঃ রোখসানা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত সাইফুল খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা ধোপাদহ গ্রামের ফিরোজ শেখ ব্যবসার প্রয়োজনে পরিবার নিয়ে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ড বাজার এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। প্রায় এক বছর আগে ভাটারা ইউনিয়নের মাহাবুবুল আলম চাঁন খার পুত্র সাইফুল খান (৪২)এর মাধ্যমে ফিরোজ শেখের কন্যার (মোছাঃ ফারজু আক্তার রিতু) সাথে ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের দুদু মিয়ার পুত্র মোঃ মানিক ওরফে নাহিদ (২৫)এর বিয়ের প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মানিক প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হন। 

গত ২১-০৫-২০২৬ ইং তারিখে কলেজের প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধন নিতে ওই ছাত্রী গাজীপুর থেকে সরিষাবাড়ীর ভাটারা বাজারে আসলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে সাইফুল ও মানিক তাকে জরুরি কথার অজুহাতে ভাটারা বাজারের উত্তরের বিলপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন ইলিয়াস, লিমন, জনি ও শুনতুইলা। তারা ছাত্রীকে মানিকের সাথে বিয়ে করতে চাপ দেয়। প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় জীবন রক্ষায় ছাত্রীটি তাদের সাথে ভাটারা এলাকার কাজী মোঃ শামীমের অফিসে যান। সেখানে জোরকরে বিয়ের রেজিষ্ট্রি করা হয়। রাতেই মানিক বন্ধুদের ছাত্রীকে শিমলাবাজার ইস্পাহানী এলাকার রাহী বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলার একটি ইউনিটে চর হরিপুরের লিমনের ভাড়াকৃত বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরকরে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। এভাবে ২৪ মে পর্যন্ত ওই কক্ষে আটকে রেখে ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। 

গত ২৪ মে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে মানিক ও তার বন্ধুরা অসুস্থ্য ছাত্রীকে ধোপাদহ গ্রামে তার নিজ বাড়ির সামনে রেখে আসেন। পরে ছাত্রীটি তার পরিবারকে বিস্তারিত জানালে পরিবার তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা ও পরামর্শের পর ২৫ মে দিবাগত রাতে ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ রোখসানা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় ৭ জনকে আসামী করে সরিষাবাড়ী থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলা নং ২১/৯৭ (২৫-০৫-২০২৬ইং)।

সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছে, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে এবং বাকী আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি