ঢাকায় রাশিয়ার মহান বিজয় দিবসের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন

সর্বমোট পঠিত : 38 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

কর্মসূচির পরবর্তী অংশে রাশিয়ান হাউসে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং "স্মৃতি দেয়াল" উদ্বোধন করা হয়। তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী ‘কালিনকা’ নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি মুহূর্তেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর ঐতিহাসিক কিছু সংগীতের পাশাপাশি রবার্ট রোঝডেসটভেনস্কির "রেকুয়িয়েম" এবং কনস্ট্যান্টিন সিমোনভের কালজয়ী কবিতা "ওয়েট ফর মি" আবৃত্তি করা হয়।

ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস এবং বাংলাদেশে অবস্থিত রুশ ফেডারেশনের দূতাবাস-এর যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাশিয়ার 'মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে' বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসে ভাবগম্ভীর "অমর রেজিমেন্ট" শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের সেইসব পূর্বপুরুষদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। এ সময় উপস্থিত সকলে সামরিক বীরত্ব ও স্মৃতির শ্রদ্ধেয় প্রতীক 'সেন্ট জর্জ রিবন' পরিধান করেছিলেন।

আনুষ্ঠানিক পর্বে বিশিষ্ট বক্তাগণ মহান বিজয়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রুশ হাউজের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনেই। এরপর পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন কম্প্যাট্রিয়টস্ অ্যাসোসিয়েশন ‘রোদিনা’র সভাপতি এলেনা বাস, সোভিয়েত অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং লিবারেশন ওয়ার একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আজাদ। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে মূল মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। তিনি একটি 'মটো-অটো র‍্যালি'-র উদ্বোধন করেন। রুশ ও বিজয় দিবসের পতাকায় সজ্জিত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের একটি বর্ণাঢ্য বহর জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গুলশান এলাকা প্রদক্ষিণ করে এবং ঢাকাস্থ রুশ হাউজে এসে র‍্যালিটি সমাপ্ত হয়।

কর্মসূচির পরবর্তী অংশে রাশিয়ান হাউসে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং "স্মৃতি দেয়াল" উদ্বোধন করা হয়। তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী ‘কালিনকা’ নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি মুহূর্তেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এরপর ঐতিহাসিক কিছু সংগীতের পাশাপাশি রবার্ট রোঝডেসটভেনস্কির "রেকুয়িয়েম" এবং কনস্ট্যান্টিন সিমোনভের কালজয়ী কবিতা "ওয়েট ফর মি" আবৃত্তি করা হয়।

অনুষ্ঠানের একটি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ অংশে মহান যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীরদের স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ‘রোদিনা’ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা যুদ্ধে হারানো তাদের প্রিয়জনদের স্মৃতিচারণ করেন এবং স্মৃতি দেয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে "তেমনায়া রোদিনা নোচ", "স্মুগ্লিয়াঙ্কা", "আলিওশা" এবং বিজয়ের জয়গান "দেন পোবেদি"-র মতো কিংবদন্তি রুশ যুদ্ধকালীন সংগীত সমবেতভাবে গাওয়ার মাধ্যমে। এই উদযাপন কেবল অতীতকে সম্মানই জানায়নি, বরং রাশিয়া ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও আরও সুদৃঢ় করেছে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি