বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে একযোগে ৫৪ সদস্যের পদত্যাগ

সর্বমোট পঠিত : 15 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন সময়ে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের বাধার কারণে তা সফল হয়নি। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তিনমাথা এলাকার রেহেনা ফলমন্ডিতে ব্যবসা স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যবসা চললেও কতিপয় ব্যবসায়ী পুনরায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে স্টেশন রোডে অবৈধভাবে ফল নামিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন।

বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্টেশন রোডে পুনরায় অবৈধভাবে দেশীয় ফল নামানো ও বিক্রির প্রতিবাদসহ সমিতির সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন সমিতির ৫৪ জন সদস্য। রোববার দুপুরে শহরের তিনমাথা এলাকায় রেহেনা ফলমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে এই গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমদানি-রপ্তানিকারক ও দেশী ফল আড়ৎদার মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম আরফান। পদত্যাগকারী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন আহমেদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন, সাবেক প্রচার সম্পাদক আইনুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল বারী, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মো: লাইজু ও ধর্মীয় সম্পাদক হাফেজ মো: আজমীরসহ ৫৪ জন আড়ৎদার।

লিখিত বক্তব্যে আরফান জানান, স্টেশন রোডের তীব্র যানজট ও উচ্ছিষ্ট ময়লা-আবর্জনা থেকে শহরকে মুক্ত রাখতে গত বছরের মে মাসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাইকারি ফলের বাজার তিনমাথা সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহরের যানজট নিরসনে স্টেশন রোডের পাইকারি বাজার সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন সময়ে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের বাধার কারণে তা সফল হয়নি। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তিনমাথা এলাকার রেহেনা ফলমন্ডিতে ব্যবসা স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যবসা চললেও কতিপয় ব্যবসায়ী পুনরায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে স্টেশন রোডে অবৈধভাবে ফল নামিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আমরা শহরের যানজট চাই না। বাজার স্থানান্তরের ফলে শহরের যানজট অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একটি পক্ষ প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় স্টেশন রোড দখল করছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধভাবে দখল হওয়া স্টেশন রোডে ফলের কারবার বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সমিতির পদত্যাগ করা সদস্যগণ আরও জানান, যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদের বাদ দিয়েও যাকে তাকে সমিতিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে যা একজন পেশাদার ব্যবসায়ী হিসেবে মানা যায় না। যেহেতু তিনমাথা দেশি ফল আড়তে সকল আমদানি ও রপ্তানিকারক এবং দেশি ফল আড়ৎদার মালিকরা একত্রিত হয়ে নতুন করে সমবায় সমিতি গঠন করেছে তাই তারা সকলে অনধিকার চর্চায় মেতে ওঠা পূর্বের সমিতি থেকে পদত্যাগ করলেন। আরফান বলেন, দূর দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা বর্তমানে তাদের এই মার্কেটে থাকা খাওয়ার সুযোগ সুবিধা পাওয়াসহ গাড়ি পার্কিং ও পণ্য পরিবহনের স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন। তাই বগুড়ার উন্নয়নের স্বার্থে দেশীয় ফল যেন আর কখনো স্টেশন সড়কে নামানো না হয় সেটি নিশ্চিন্তে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি