শেরপুরের ব্রীজ ও রাস্তার দাবীতে মানব বন্ধন করলো চরবাসী

সর্বমোট পঠিত : 12 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও, আজও হয়নি একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু। সেইসাথে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে।  চরাঞ্চলটি সবজির ভাণ্ডার নামে খ্যাত। যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছে কৃষক। সেইসাথে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। 

শেরপুর সদরের উন্নয়ন বঞ্চিত কামারেরচরে ব্রীজ ও রাস্তার দাবীতে আন্দোলনে নেমেছেন চরবাসী। এজন্য তারা তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মানব বন্ধন, শহরে বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 

শেরপুর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরত্বের ৬ নং চর, গোয়ালপাড়া, পয়েস্তিরচরসহ অন্তত ছয় গ্রামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। অবহেলিত এই চরাঞ্চলের অর্ধ লক্ষ মানুষের বসতি থাকলেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ছয় মাস থাকে পানির নিচে। সেই সাথে সেতুর অভাবে বড় ভোগান্তিতে আছে দশানী নদীর দুই পাড়ের মানুষ।‌ তাই রাস্তা ও ব্রীজের দাবীতে আন্দোলনের ডাক তাদের। 
 
১৯ এপ্রিল বেলা এগারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত চলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে। 

জেলা সদরের দুর্গম চরাঞ্চল ৬ নংচর, গোয়ালপাড়া, পয়েস্তিরচর, দক্ষিণ ৬নংচর, নতুনপাড়া ও ৭ নং চর গ্রাম। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দশানী ও ব্রক্ষপুত্র নদী। যা গ্রামগুলোকে বিভক্ত করে রেখেছে। কামারেরচর বাজার থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হলেও, এই গ্রামগুলোতে পৌঁছানো যেন এক দুঃসাহসিক যাত্রা। প্রয়োজন অন্তত তিনটি সেতুর। কিন্তু নেই একটিও।

এদিকে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। চার থেকে দশ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় পুরো রাস্তা। তখন চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে চলতে হয় ভ্যান কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও, আজও হয়নি একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু। সেইসাথে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে। 
চরাঞ্চলটি সবজির ভাণ্ডার নামে খ্যাত। যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছে কৃষক। সেইসাথে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। 

তাই চরবাসী তাদের ভোগান্তির অবসান ও ব্রীজ এবং পাকা সড়কের দাবীতে আন্দোলনে নেমেছেন। তারা মানব বন্ধনসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছেন। 

চরাঞ্চলের মানুষদের দাবির প্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন এলজিইডি শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান। 

স্মারকলিপি গ্রহণ করে ব্রীজ ও সড়কের গুরুত্ব তুলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টিতে আনার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।

অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি সেতু এবং বন্যা উপযোগী টেকসই রাস্তা তৈরি করতে পদক্ষেপ নেবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা চার বাসীর। এ দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন অব্যহত রাখার ঘোষণা আয়োজকদের। 

সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে চরএলাকার নেত্রেস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও ছাত্র, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেসার মানুষ বক্তব্য রাখেন এবং তাদের দূর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। 

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি