সৌদিতে দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারিয়ে গ্রামে ফিরল ফাইজা

সর্বমোট পঠিত : 25 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ফাইজার মামা মামুন হোসেন বলেন, মরদেহ দেশে আনার জন্য তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও দুই বোনকে হারিয়ে একা দেশে ফিরেছে ১১ বছরের ফাইজা আক্তার। তবে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর এখনো জানে না সে।

নিহতরা হলেন—লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী (৩০), বড় মেয়ে মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুবাহ। একই দুর্ঘটনায় গাড়িচালক মোহাম্মদ জিলানী বাবরও নিহত হন।

ফাইজা, যে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিল, এখনো বিশ্বাস করে তার বাবা-মা ও বোনেরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং ঈদের আগেই দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার পর সে জানায়, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই মামার সঙ্গে চলে এসেছি। তারা ঈদের আগেই আসবে। আমি আর কখনো মাইক্রোবাসে উঠব না, বিদেশেও যাব না।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। ওমরা শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি সময় রাত ৩টার দিকে আবহা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী, দুই কন্যা ও গাড়িচালক নিহত হন। গুরুতর আহত হয় ফাইজা।

দুর্ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজাকে তার মামা সৌদিপ্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে আনা হয়। বর্তমানে সে রামগঞ্জের ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামে নানাবাড়িতে অবস্থান করছে। তাকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

ফাইজার চাচা বাহারুল আলম জানান, নিহত চারজনের মরদেহ এখনো সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানা গেছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা তাদের পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা না হলে সৌদিতেই দাফন করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ফাইজার মামা মামুন হোসেন বলেন, মরদেহ দেশে আনার জন্য তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি