শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহত মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেন বিএনপি প্রার্থীসহ ৪০ নেতাকর্মী

সর্বমোট পঠিত : 66 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

আদালতে আসামিপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামিন মঞ্জুরের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এই ঘটনায় যিনি নিহত হয়েছেন, তার স্ত্রী জনাব মাহমুদুল হক রুবেলসহ ২৩১ জন ওই নির্বাচনে আসনের বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেছে। শুধুমাত্র ২৩১ জনের নাম দিয়েই ক্ষান্ত হননি, অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচশত নেতা কর্মীদের ও আসামি করা হয়েছে।

শেরপুরে বিএনপি জামাতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত  মামলায় হাইকোর্ট বিএনপির প্রার্থীসহ ৪০ নেতাকর্মীকে আগাম জামিন প্রদান করেছেন। ২ ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি ব্যাঞ্চ বিএনপির এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জনকে ছয় সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন প্রদান করেন। বিষয়টি হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি- জামায়াত সংঘর্ষে জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা ওই মামলায় শেরপুর-৩ আসনের জনপ্রিয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলকে নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে রাখতেই তাকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১:৩০ মিনিটে মহামান্য হাইকোর্টে বিভাগের এক দ্বৈত বেঞ্চ মাহমুদুল হক রুবেলসহ ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার শীর্ষ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন প্রদান করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে পূর্ব থেকেই জামায়াত কর্মীরা সব চেয়ার দখল করে বসে থাকেন। পরে বিএনপি নেতা কর্মীরা বসার জন্য কোন চেয়ার না পেয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। মূলতঃ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করেই বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন বিএনপি ৪০ নেতাকর্মীসহ শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঘটনার ৩ দিন পর ৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (জিআর মামলা নং ২০/২০২৬)। মামলায় বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে পেনাল কোডের ১৪৩, ১৪৪, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১১৪, ১০৯, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামিন মঞ্জুরের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এই ঘটনায় যিনি নিহত হয়েছেন, তার স্ত্রী জনাব মাহমুদুল হক রুবেলসহ ২৩১ জন ওই নির্বাচনে আসনের বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেছে। শুধুমাত্র ২৩১ জনের নাম দিয়েই ক্ষান্ত হননি, অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচশত নেতা কর্মীদের ও আসামি করা হয়েছে।

অথচ আমরা ভিডিও ফুটেজ কিংবা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যে সমস্ত ছবি দেখেছি সেখানে মাহমুদুল হক রুবেল সাহেবের উপস্থিতিই পাইনি। অথচ উনাকে এক নম্বর হুকুমে আসামি করা হয়েছে। তার নির্দেশেই নাকি ঘটনা ঘটেছে। আমরা মনে করি এটা সম্পূর্ণভাবে তথ্যগতভাবে ভুল এবং মিথ্যাভাবে তাকে মামলায় জড়িত ও আসামি করা হয়েছে।"

ব্যারিস্টার কাজল আরও করেন, "যেহেতু তিনি একজন জনপ্রিয় সাবেক এমপি এবং আসন্ন নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন, সে কারণেই আমরা মনে করেছি যে—তাকে এবং তার সমর্থকদের এই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির মাধ্যমে তারা যেন নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে সরে যায়, এই উদ্দেশ্যেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আমাদের বিএনপি সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব মাহমুদুল হক রুবেলসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ৪০ জনের জন্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে জামিন প্রার্থনা করেছিলাম। জামিন প্রার্থনার গ্রাউন্ড হিসেবে আমরা বলেছিলাম, উনারা সবাই রাজনীতি করেন এবং এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই মিথ্যা বানোয়াট মামলাটি করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এই এজাহারের মধ্যে কোথাও কোনো আসামি সম্পর্কে—তার স্বামীকে কে আঘাত করেছে, তা উল্লেখ করা নেই। এটা কিন্তু আমরা আদালতকে দেখিয়েছি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন; সরকার পক্ষের আইনজীবী বিরোধিতা করেছেন, কিন্তু আদালত আমাদের বক্তব্যের প্রাথমিক সত্যতা এবং প্রাথমিক গ্রাউন্ডটাকে একসেপ্ট করে উনাদের ৪০জনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, খুব দ্রুতই মামলার অন্যান্য আসামিরাও একইভাবে জামিন পাবেন।

এদিকে স্বামী রেজাউল হত্যার বিচার দাবী করে ২ ফেব্রুয়ারী বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন নিহত রেজাউলের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি