বাল্য বিয়েতে ভ্রাম্যমান আদলতের সাজা

শিশুদের সাজা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

সাজা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা
সর্বমোট পঠিত : 71 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূভাবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে নেত্রকোনার আটপাড়ায় ১ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই শিশুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। পরে শিশুদের গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও টঙ্গীর পৃথক দুই উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। শিশু দুজনেরই বয়স ১৫ বছর। আইনজীবীরা জানান, ওই দন্ডাদেশ দেশের প্রচলিত শিশু আইন, ২০১৩ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থী। শিশু–সম্পর্কিত সব অপরাধের বিচার শুধু প্রতিষ্ঠিত শিশু আদালতেই হবে।

বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজি মো. আবদুর রহমান জানয়িছেনে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে নেত্রকোনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই শিশুর সাজা দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া লিখিত ব্যাখ্যায় ক্ষমা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি সচেষ্ট থাকবেন।

তিনি জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭–এর ৭(২) ধারায় অপরাধ স্বীকার করায়, উভয়ের জীবন রক্ষার্থে, তাদের উত্তম স্বার্থ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনা করে এই দন্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের বাল্যবিবাহ সংঘটনের অপরাধের বিষয়ে দন্ডাদেশের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭–এর ৭(৩) ধারায় শিশু আইন, ২০১৩–এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে। অপর দিকে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭–এর ১৭ ধারায় বলা আছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট দন্ড আরোপ করিতে পারিবে। এমতাবস্থায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড প্রদানের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আমি খুব অনুতপ্ত এবং সরল বিশ্বাসে কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ২২ আগস্ট সুলতানা রাজিয়ার কাছ থেকে পাওয়া লিখিত বক্তব্যের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূভাবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে নেত্রকোনার আটপাড়ায় ১ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই শিশুকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। পরে শিশুদের গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও টঙ্গীর পৃথক দুই উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। শিশু দুজনেরই বয়স ১৫ বছর। আইনজীবীরা জানান, ওই দন্ডাদেশ দেশের প্রচলিত শিশু আইন, ২০১৩ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থী। শিশু–সম্পর্কিত সব অপরাধের বিচার শুধু প্রতিষ্ঠিত শিশু আদালতেই হবে।

এ ঘটনায় পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে, ৫ আগষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চেয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত আবেদন করেন। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট ওই দুই শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আদেশের বিষয়টি নেত্রকোনার জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার (সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র) মোহাম্মদ সাইফুর রহমানকে বলেন আদালত।

৫ আগস্ট আদালতের রিটের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার ব্যাখ্যার কপি ২৬ আগস্টের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।

এদিকে হাইকোর্টের এ আদেশের আগেই নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুহেল মাহমুদ শিশুদের আটকাদেশ বাতিল করে তাদের খালাস দেন। একই সঙ্গে সুলতানা রাজিয়ার কাছে এ বষিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি