আবারও মেসিকে বাঁচালেন ‘বাজপাখি’ মার্টিনেজ

সর্বমোট পঠিত : 27 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ইকুয়েডরকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। তবে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য। পুরোটা সময়ই ভুগেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কখনো ইকুয়েডরের হুটহাট আক্রমণ, আবার কখনো নিজেদের ভুল-পুরো ম্যাচেই চাপে ছিলেন মেসিরা।


ইকুয়েডরকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। তবে হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জন্য। পুরোটা সময়ই ভুগেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কখনো ইকুয়েডরের হুটহাট আক্রমণ, আবার কখনো নিজেদের ভুল-পুরো ম্যাচেই চাপে ছিলেন মেসিরা।

আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গোল দেয় আর্জেন্টিনাই। প্রথম কর্নার কিক থেকেই লিওনেল মেসির শট আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের মাথা ছুঁইয়ে আসে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে। বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি এই ডিফেন্ডার।

লিসান্দ্রোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সময় দাপট দেখায় আর্জেন্টিনা। তবে বিরতির পর আবারও ইকুয়েডরের শারীরিক ফুটবলের সঙ্গে পেরে উঠছিল না দলটি। যদিও শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু তা হয়নি। বদলি নেমে কেভিন রদ্রিগেজ ঘুরিয়ে দেন ম্যাচের মোড়। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে আরেক বদলি ফুটবলার জন ইয়েবোয়ার ক্রস থেকে হেডে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।

কোপা আমেরিকার নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ের নিয়ম না থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই আবারও আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা হয়ে ধরা দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ নিয়ে তিনটি মেজর টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে চারবার টাইব্রেকারে দাঁড়িয়ে সবগুলোই আর্জেন্টিনাকে জেতালেন তিনি।

আজ মেসি শুটআউটে প্রথম শটই করেন মিস। তার নেওয়া পানেনকা শট ফিরে আসে গোলবারে লেগে। তখন অনেকের মনেই ভাসছিল ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালের কথা। সেবার এই আমেরিকাতেই ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে মেসির প্রথম শট মিসের পর শিরোপা খোয়ায় আর্জেন্টিনা। তবে এমি ওই বিষাদময় দিন আর ফিরতে দেননি। একপ্রকারে মেসিকেও বাঁচালেন গ্লানি থেকে।

এদিন ইকুয়েডরের পরপর দুটি শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। আনহেল মিনার শট বাঁ পাশে ঝাপিয়ে ঠেকানোর পর অ্যালান মিন্দার শট ডানদিকে ঝাপিয়ে আটকে দেন তিনি। এমির এ দুটি সেভেই আর্জেন্টিনা যায় এগিয়ে। এরপর একে একে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, গঞ্জালো মন্টিয়েল এবং নিকোলাস ওটামেন্ডি। ফলে জন ইবোয়াহ এবং জর্দি কাইসেডো গোল করলেও ৪-২ গোলের জয়ে সেমির টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা।

অবশ্য এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিন তিনবার বিশ্বস্ত গ্লাভসজোড়া দিয়ে আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন এমি মার্টিনেজ। ২০২১ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে দুটি শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে এই মার্টিনেজই তুলেছিলেন ফাইনালে। পরে ওই কোপা জিতে ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘোচায় আর্জেন্টিনা।

এমি মার্টিনেজ এরপর আরও দুবার দেখান নিজের ঝলক। দুটিই ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে অতিমানব হয়ে ওঠেন তিনি। তার হাত ধরেই সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। এরপর ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের নায়কও তিনি। ৩-৩ গোলে মহানাটকীয় ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন তিনি। তার কল্যাণেই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর পর জেতে বিশ্বকাপ। পূর্ণতা পায় মেসির ক্যারিয়ার।

দুই বছরে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই আর্জেন্টিনার মধ্যে সেই জয়ের খুদাটা আর দেখতে পারছেন না বটে। তবে মার্টিনেজ আছেন তার মতোই। কে জানে, ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার এ দুটি সেভের পর আবারও আর্জেন্টিনা জিতে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি