৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প

৩২ বছরে থেমেছে যে ভূমিকম্প
সর্বমোট পঠিত : 7 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ইতিহাসের যে প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পের কথাই বলা হোক না কেন, স্থায়িত্ব ছিল বড়জোর কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট। সেখানে একটি ভূমিকম্পই টানা ৩২ বছর ধরে চলেছে, এমনটা বেশ অবিশ্বাস্য। কিন্তু বাস্তবেই এমনটা ঘটেছে ভূমিকম্পপ্রবণ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজিরবিহীন ওই ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়া কেঁপেছিল ১৮৬১ সালে। ধারণা করা হচ্ছিল, ভূগর্ভের টেকটনিক প্লেটের কোনো চ্যুতি হঠাৎ বড় ধরনের ফাটলে রূপ নেয়ায় ভয়াবহ ওই কম্পন সৃষ্টি হয়।

নেচার সায়েন্সে প্রকাশিত মূল গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল আঘাতটি হানার আগে দ্বীপের নিচের একাধিক টেকটনিক প্লেটের কম্পন এবং একটির সঙ্গে অপরটির ঠোকাঠুকি চলেছে ৩২ বছর।


কিন্তু সাগরের তলদেশে এই কম্পন ও ঠোকাঠুকি এতোই মৃদু ছিল যে টের পায়নি সুমাত্রাবাসী।


সায়েন্টিফিক আমেরিকান ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৬০ বছর আগে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল কমপক্ষে ৮ দশমিক ৫। কম্পনের তীব্রতায় সৃষ্ট সুনামি, অর্থাৎ ভয়াবহ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ যায় হাজার হাজার মানুষের।


দীর্ঘ কিন্তু নীরব কম্পনকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘স্লো-স্লিপ ইভেন্ট’।


সাম্প্রতিক যত স্লো-স্লিপ ইভেন্ট শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপ্তি ছিল কয়েক ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহ। স্থায়িত্বে বছর ছাড়িয়েছে হাতেগোণা কয়েকটি কম্পন।


গবেষকরা বলছেন, ইতিহাসে দীর্ঘ যত ‘স্লো-স্লিপ ইভেন্ট’ শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দীর্ঘতম এবং অপ্রত্যাশিত ব্যাপ্তির কম্পন ছিল তিন দশকের বেশি সময় স্থায়ী হওয়া সুমাত্রার ওই ভূমিকম্প।


সুমাত্রা উপকূলের প্রবালের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পটির ব্যাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা।


সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সটির গবেষক ও গবেষণা প্রতিবেদনটির সহ-লেখক রিশাভ মল্লিক বলেন, প্রবাল কেবল পানির নিচেই বাঁচতে পারে, খোলা বাতাসে নয়। টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ায় সমুদ্রের উচ্চতায় পরিবর্তন আসলে সে পরিবর্তনের কারণে প্রবালের আকৃতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে।


২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্ট কম্পন ও সুনামিতে প্রাণ যায় কয়েকটি দেশের উপকূলের সোয়া দুই লাখ মানুষের।


গবেষকরা জানান, এর কয়েক বছর আগেই আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের তলদেশে স্লো-স্লিপ চলছিল।


এসব গবেষণা ভূতাত্ত্বিকদের বিপজ্জনক ভূমিকম্প আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে পারে।


তবে প্রতিটি স্লো-স্লিপের ব্যাপ্তির পার্থক্য অনেক বলে এর মাধ্যমে আসন্ন বিপজ্জনক ভূমিকম্প শনাক্ত করা বা পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়।


ভূমিকম্পপ্রবণ 'রিং অফ ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় প্রতি বছরই আঘাত হানে ছোট-বড় ভূমিকম্প।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি