গাইবান্ধায় সিজার রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, অভিযোগ দায়ের

সর্বমোট পঠিত : 122 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটির তদন্ত চলমান রয়েছে।


গাইবান্ধা শহরের "গাইবান্ধা ক্লিনিক" নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের সময় পেটে গজ রেখেই অপারেশন করার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই প্রসূতি রংপুরের একটি বেসরকারি নাজমা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পেটে গজ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন এর কাছে অভিযোগ করা হলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে গাইবান্ধা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ।

অপর দিকে গাইবান্ধা জেলা জুড়ে সর্বত্র ক্লিনিক গুলোতে লাইসেন্স নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক,নার্স, সেবিকা ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত পরীক্ষা নিরিক্ষার সরঞ্জামাদি না থাকার পরেও এগুলোই বৈধ ও কথিত মানসম্মত ক্লিনিক। জেলা জুড়ে চলছে কুচিকিৎসা বানিজ্য ভোক্তভোগী সর্বস্তরের মানুষ।

১৯ আগস্ট শনিবার বিকেলে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন . মো: আব্দুল্লাহেল মাফী। এ ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার একজন নারী কনসালটেন্টকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে গত ২৩ জুলাই গাইবান্ধা ক্লিনিকের পরিচালক ডাক্তার একরাম হোসেনের অপারেশনে এ ঘটনা ঘটে।সিভিল সার্জন ও থানা পুলিশের কাছে করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গেল ২৩ জুলাই গাইবান্ধা ক্লিনিকের স্বত্বাধীকারী ডা: মোঃ একরাম হোসেন রুমি বেগম নামে এক গৃহবধূর সিজারিয়ান অপারেশন করেন। তারপর পাঁচ দিনের মাথায় নানা জটিলতায় শুরু হয় ঐ গৃহবধূর । এক পর্যায়ে তার অবস্থা খারাপ হলে গাইবান্ধা ক্লিনিকের সেই ডাক্তারের কাছেই নেন তার পরিবার। অবস্থার বেগতিক দেখে ভর্তি করে ওপারেশন থিয়েটারে নেন। অপারেশনের পর বের করে একটি কেবিনে ভর্তি করিয়ে রাখেন। রোগীর অবস্থা অবনতি হলে পরিবার ও পুলিশের তোপের মুখে গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর রেফার্ড করা হয়।

এদিকে গত ১৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রংপুরের বেসরকারি একটি ক্লিনিক "নাজমা ক্লিনিকে অপারেশনের মাধ্যমে গৃহবধূর পেট থেকে ময়লা ও পচা অংশ অপসারণ করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগী এখনো শংকামুক্ত নয়। রুমি বেগম গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌর শহরের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের মোঃ মেজবাহুল হকের স্ত্রী।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা: মোঃ একরাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তৃতীয় সিজার হওয়ার কারণে রুমি বেগমের অপারেশনটি জটিল ছিল। সিজারের পর তার সমস্যার বিষয়টি জানার পর আমরা তার চিকিৎসা করতে চেয়েছি। কিন্তু তার স্বামী আমার এখানে চিকিৎসা করতে রাজি না হওয়ায় আমি তাকে রংপুর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেছি। তারপর রোগীর স্বজনরা আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

এ বিষয়টি জানতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. মো: আব্দুল্লাহেল মাফী সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এ বিষয়ে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি