রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছে না রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলো


নিউজ ডেস্ক:
পুরো রাজধানীতে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সাধারণ শয্যা রয়েছে মাত্র আড়াই হাজার। আইসিইউ বেড আছে মাত্র ১২৮টি। এসব দিয়ে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছে না রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলো।

গতবারের করোনার অভিজ্ঞতা কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না সেই প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর স্বজনরা। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মানুষ সচেতন না হলে শয্যা বাড়িয়েও লাভ নেই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পরই মুগদা জেনারেল হাসপাতালকে পুরোপুরি কোভিড হাসপাতাল করা হয়। ৩১০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে মাস দেড়েক আগেও সিট খালি পাওয়া যেতো। একমাস ধরেই বাড়ছিলো রোগীর চাপ।

এখন এ হাসপাতালে সিট পাওয়া যেনো সোনার হরিণ! সুস্থ হয়ে কোনো একজন হাসপাতাল ছাড়েন কি না এ অপেক্ষায় থাকেন নতুন রোগীর স্বজনেরা। গত দশদিনে এ হাসপাতালের ১৯টি আইসিইউ বেডের একটিও ফাঁকা হয়নি।

মুগদা হাসপাতালের উপ পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এটা পরিস্কার। আমরা ১৪টি আইসিইউ চালু রেখেছি আড় ৫টি যোগ করে এখন ১৯ টি আছে। এরপরও কমতি আছে। এর মধ্যেই আমরা প্রস্তুত আছি রগীদের সেবা দেয়ার জন্য।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ২০টি। আইসিইউ সেবা পাওয়ার আশায় বড় হাসপাতাল ভেবে অনেকেই এখানে ছুটে আসেন কিন্তু খালি পাওয়া যায় না। হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভর্তি রোগীরাই দরকার অনুযায়ী পান না আইসিইউ সেবা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, “জটিল একটা পরিস্থিতি। তার ৭টা/৮টার পর নামাদের রোগী নেয়ার জায়গা থাকে না। আমাদের ২০তা আইসিইউ থেকে যে ২/৪টা খালি হয় সেখানে আমাদের রোগীদের নিতে হয়। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের আইসিইউ চাইলে সেটা দেয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই।”

শুধু মুগদা হাসপাতাল কিংবা ঢাকা মেডিক্যাল নয়, রাজধানীর অন্যসব সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্রও একই রকম।

রাজধানীর দশটি সরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ২ হাজার ৫৫৫টি। আর দশটির মধ্যে আইসিইউ বেড রয়েছে আটটিতে যার মোট সংখ্যা ১২৮টি। যেগুলোর কোনেটিই খালি নেই বেশ কিছুদিন আগে থেকেই।

Top
ঘোষনাঃ