লাভের আশায় আগাম আনারস চাষ করে বিপাকে চাষিরা


নিউজ ডেস্ক:
লাভের আশায় আগাম আনারস চাষ করে বিপাকে চাষিরা। বাজারে আনারসের চাহিদা না থাকায় কমমূল্যে আনারস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষি। এতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাচ্ছে না তারা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শীতের কারণে আনারসের চাহিদা না থাকায় ক্রেতারা আনারস কিনছেন না। কৃষি বিভাগের মতে, অধিক মুনাফার আশায় বেশিরভাগ চাষি আগাম আনারসের চাষ করায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তখনও পূর্ব আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশা কাটিয়ে কাপ্তাই হ্রদ পেরিয়ে আনারস নিয়ে শহরের বনরূপার সমতা ঘাটে তরী ভিড়াচ্ছেন চাষীরা। অধিক মুনাফার আশায় হাজারো স্বপ্ন নিয়ে আগাম আনারস বাগান করেছেন এই চাষিরা। আর মাঘের সাত সকালে উৎপাদিত এই আনারস নিয়ে এসে দাম শুনে ফাটা ঠোঁটের হাসিটাও যেন মলিন হয়ে গেল।

সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বাজারে আনারস দেখা মিললেও কয়েকবছর ধরে শীতের মৌসুমেও আনারসের দেখা মিলছে রাঙামাটির বাজারে। ভালো দামের আশায় আগাম আনারস চাষ নিয়ে চাষিদের আগ্রহ বাড়লেও এবার প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অগ্রিম চাষেও মিলছে না কাঙ্খিত মুনাফা।

চাষিরা বলছেন, আনারস বাজারে এনে ১০ টাকা প্রতিটি পিস বিক্রি হচ্ছে। চারা হতে শুরু করে যেভাবে চাষ করা হয় সে অনুযায়ী দাম পাচ্ছি না।

শীতের কারণে বাজারে আনারসের চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি ব্যবসায়ীদেরও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফলের যে দাম তার থেকে পরিবহন খরচ বেশি। পরিবহন খরচ কম হয়লে লাভের পরিমাণও কিছুটা বেশি হতো।

কয়েকবছরে আগাম চাষে অধিক মুনাফা পাওয়ায় এবার বেশিরভাগ চাষি আগাম আনারসের দিকে ঝুঁকে পড়াতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন, লাভবান হওয়ার প্রবণতা সবার মধ্যে ঢুকে যাওয়ার কারণে তারা কিন্তু আগাম চাষ একইসঙ্গে করতেছে। মৌসুমের আগেই আনারস বাজারে আসছে। এতে করে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর ১৭৯৭ হেক্টর জমিতে ৪৬৮৭০ মে.টন আনারস উৎপাদন হয়েছিল।

Top
ঘোষনাঃ