পরিবেশ দূষণে বাড়ছে শিশু অ্যাজমা রোগী


নিউজ ডেস্ক:
আবহাওয়ার পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে প্রতিবছর বাড়ছে শিশু অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা। অথচ অভিভাবকদের অসচেতনতায় রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পেতে বেগ পেতে হয় অনেক শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই রোগ নিয়ে সুযোগ নেই অবহেলার। বরং সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপনে সম্ভব সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন।

শিশুর ছোট্ট শরীরে দমের লড়াই। বেঁচে থাকার প্রধান অনুষঙ্গ অক্সিজেন গ্রহণের প্রাণপন চেষ্টা। বায়ুমণ্ডলে অভাব নেই মহামূল্যবান এই উপাদানের তবে অক্ষমতা-সংকট শুধু টেনে ফুসফুসে পৌঁছে দেয়ার। দেশের নামকরা হাসপাতাল আর আধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম, তবুও যেন মিলছে না এতোটুকু প্রশান্তি।

জন্ম থেকেই হাসপাতালের বাসিন্দা তামিম। সাত মাস বয়েসের জীবনে পাঁচ মাসই কেটে গেছে হাসপাতালের বিছানায়। কিছু জন্মগত ত্রুটি থাকলেও বর্তমানে সব থেকে বড় সমস্যা শ্বাসকষ্ট। জীবনের শুরুতেই সন্তানের এমন অসহায়ত্বে হতাশার সাগরে ডুবছেন মা আছমা বেগম। সময় গড়ায় চলে চিকিৎসাও তবু অধরাই থেকে যায় সুস্থ-সবল সন্তানকে নিয়ে আনন্দমুখর জীবনের স্বপ্ন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা আছমা বেগম বলেন, অনেক শ্বাসকষ্ট। মা হিসেবে দেখে সহ্য করতে পারি না। সে তো শিশু।

১৬ মাস বয়সী মুঈজের অসুস্থতার শুরু দুই মাস বয়সে। প্রথমে খোঁচ-পাচড়া। চার মাসের চিকিৎসায় মুক্তিও মেলে। তবে চুলকানি বিদায় নিলেও মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেয় শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি। কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে ঢাকা শিশু হাসপতালে।

এই রোগের প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও গবেষকদের ধারণা কিছু বংশগত ও পরিবেশগত কারণ হয়ে থাকে এই রোগ। তবে প্রতিবছরই শীতের শুরু বা শেষে প্রকট আকার ধারণ করে অ্যাজমা।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক অফিসার ডা. খন্দকার আশিকুজ্জামান বলেন, শীতের শুরুতে বেশ প্রকট ধারণ করে। এ সময়ে আবহাওয়া একটু শুষ্ক থাকে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, শিশুদের মা বলে আমার বাচ্চার অ্যাজমা হয়েছে। সব কিছু নেবো। কিন্তু ইনহেলার নেবো না।

শ্বাসকষ্ট মানেই অ্যাজমা নয়। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কোলাইটিস, ল্যারিঙ্গোমেলেসিয়াও শ্বাস কষ্টের কারণ। সুতরাং শিশুর সুস্থ-সুন্দর জীবনের জন্য অভিভাবকদেরও জানতে হবে অ্যাজমার লক্ষণ ও প্রতিকার বিষয়ে।

অ্যাজমার সঙ্গে বৈরিতা নয় বরং সমঝোতাপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সম্ভব স্বাভাবিক জীবন-যাপন। তবে ঢাকা শিশু হাসপাতালের এই অ্যাজমা সেন্টারের মতো দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে শিশু অ্যাজমা সেন্টার গড়ে তোলা সম্ভব হলে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভব তৃণমূলে এই রোগের সেবা পৌঁছে দেয়া।

Top
ঘোষনাঃ