পণ্য আনা-নেয়ায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না ভুটান


নিউজ ডেস্ক:
পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে তৃতীয় কোন পক্ষের সহযোগিতা ছাড়াই সরাসরি বাণিজ্য করতে চায় ভুটান। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টশিল।

এ সময় বাণিজ্য সহজ ও দ্রুত করতে বাংলাদেশের বুড়িমারি, বাংলাবান্ধা, সোনাহাট এবং আখাউড়া স্থল বন্দরের সক্ষমতা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

তিনি জানান, স্বাক্ষরিত পিটিএ এর সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুটান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এ সময় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় প্রয়োজনীয় সব কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন,ভুটান বাংলাদেশের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় পাথর সরবরাহ করতেও আগ্রহী। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য রাসায়নিক সার আমদানিতে আগ্রহ দেখানোর সঙ্গে ভুটানের ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন তিনি।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি-পিটিএ সাক্ষরিত হলেও এখনও তার কোন সুবিধা পায়নি বাংলাদেশ। ফলে এ চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নে আগামী মার্চেই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আয়োজন করে দু দেশের প্রয়োজনীয় কাজগুলো শেষ করার পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।

মন্ত্রী বলেন, ভুটান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃতিকারী দেশ। দু’দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রিপারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হয়। দু’দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যা কাজে লাগানোর জন্যই চুক্তিটি করা হয়েছে। কিন্তু এর কোন সুবিধা এখনও দু’দেশের কেউই পাচ্ছে না। ফলে যতদ্রুত সম্ভব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পিটিএ এর সুবিধা কাজে লাগানোর পক্ষে মত দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভুটান থেকে নির্মাণ কাজের সামগ্রী আমদানি করে থাকে। ভুটানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক, প্লাইউড, মিনারেল ওয়াটার, জুস, ঔষধ, শুকনা খাবারসহ অনেক পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ভুটানের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি পরিবহণ চালু হলে উভয় দেশ বাণিজ্যিক ভাবে উপকৃত হবে।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ভুটানে ৭ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। পিটিএ বাস্তবায়িত হলে যা বাড়বে কয়েকগুণ।

Top
ঘোষনাঃ