আগামী দিনে মোংলা বন্দর হবে একটি কর্মমুখর ডিজিটাল সমুদ্র বন্দর: রিয়ার এডমিরাল শাহজাহান


মনির হোসেন,মোংলা:
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. শাহজাহান বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সম্প্রসারন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানী বাণিজ্যসহ জাতীয় অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিতকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলা। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় মোংলা বন্দরের সুযোগ সুবিধা ও সেবার মান উন্নয়নের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি অর্থায়নে ১০ টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ১ টির কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকী প্রকল্প গুলো ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে। এ সকল গৃহিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নাব্যতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ, জেটিসহ অবকাঠামো নির্মাণ, ভিটিএমআইএস, আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ও জলযান সংগ্রহ।

রিয়ার এডমিরাল শাহজাহান আরো জানান, মোংলা বন্দরের ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজি-২০৩০ ও ভিশন-২০৪১ এর অভিষ্ট লক্ষমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে। বন্দর কেন্দ্রিক অন্যান্য অবকাঠামো সহ পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকার সাথে মোংলা বন্দরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে বন্দরের ব্যবহার বহুগুনে বেড়ে যাবে। এ বিবেচনায় ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য মোংলা বন্দরকে সক্ষম করে তোলার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত অভিক্ষেপণ অনুযায়ী বন্দরের বর্ধিত চাহিদা সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলার জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে মোংলা বন্দরে ৩ হাজার জাহাজ, ৩০ হাজার গাড়ি এবং ৮ লক্ষ টিইউজ কন্টেইনার ও ৪ কোটি মেঃটন কার্গো হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিসহ সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মোংলা বন্দরের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ জানায়, পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান বন্দরের সঙ্গেই মোংলা বন্দরের বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানত এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার জাহাজগুলো এই বন্দরে নোঙর করে থাকে। এ বন্দরটি দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সম্প্রতি মোংলা বন্দরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া ভারত, ভুটান ও নেপালের সাথে সরকারের চুক্তির ফলে এ সম্ভাবনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত, নেপাল, ভূটানকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এটি একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন।

সূত্রটি আরো জানায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৪১৬ টি, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ছিল ৪৮২ টি, ২০১৬ -২০১৭ অর্থবছরে ছিল ৬২৪ টি, ২০১৭- ২০১৮ অর্থবছরে ছিল ৭৮৪ টি, ২০১৮ – ২০১৯ অর্থবছরে ছিল ৯১২টি। এছড়াও চলতি মাসের প্রথম ৬ মাসে বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৫১৯ টি। পরিসংখ্যানে দেখা দেয়া প্রতিবছরই বন্দরে ১২০ থেকে ১৫০ টির মত জাহাজ আগমন বেড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন ১ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে যাবে।

Top
ঘোষনাঃ