স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম যাচাই-বাছাইয়ে আসায় ক্ষোভ


নিউজ ডেস্ক:
লাল বই কিংবা মুক্তিবার্তা। নাম আছে সর্বত্র। স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতাও পাচ্ছেন তারা যথারীতি। কিন্তু এরপরও নাম উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায়।

বরিশালের ভুক্তভোগী দুজন মুক্তিযোদ্ধা সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, চেয়েছেন প্রতিকার।

এদিকে সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলছেন, বিষয়টি হতে পারে ভুলে, সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।

বরিশালের শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনের তপন কুমার চক্রবর্তী। লাল বইতে নাম আছে তার। এরপরও ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় তার নাম আসে। আর এবার নাম এসেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদ্য প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই তালিকায়। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও যাচাই-বাছাই তালিকায় নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তপন কুমার চক্রবর্তী।

মুক্তিাযোদ্ধা তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমার নাম লাল বইতে, গেজেটসহ বিভিন্ন জায়গায় আছে। আমি একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাতাপ্রাপ্ত। তা সত্ত্বেও আমাকে কেন বারবার হয়রানি করা হবে।

এদিকে মুক্তি বার্তায় নাম থাকার পরও যাচাই-বাছাই তালিকায় নাম আসায় উদ্বিগ্ন মুক্তিযোদ্ধা খান আলতাফ হোসেন ভুলু।

মুক্তিাযোদ্ধা খান আলতাফ হোসেন ভুলু বলেন, ৫০ বছর পরে ফের যাচাই বাছাই করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে নাম এসেছে। এটা আমার কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক, অত্যন্ত লজ্জাজনক।

বিষয়টির জন্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতাকে দুষছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।

তপন চক্রবর্তীর মেয়ে ও জেলা বাসদ সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, এটা অদক্ষতা, অবহেলা হলে এর চক্রান্তের সঙ্গে কারা জড়িত সেটা নিরুপণ করে তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতেও যেন এই প্রকৃত মুক্তযোদ্ধাদের হয়রানির শিকার না হতে হয় সেজন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

তপন চক্রবর্তীর স্ত্রী রিনা চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় খুব হতবাক হয়েছি। আমাদের জন্য এটা অসম্মানের। এর তীব্র নিন্দা জানাই

বিষয়টি ভুলে হয়েছে সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার।

বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ কুতুবুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা অলরেডি তাদের নাম রেক্টিফিকেশন কইরা নতুন নাম পাঠায়ছি। এবং এরা যাচাই বাছাই থেকে বাদ যাবে।

বরিশাল জেলায় ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭ হাজার ৭১ জন। জামুকের সদ্য প্রকাশিত তালিকায় নাম এসেছে ২০৫ জনের।

Top
ঘোষনাঃ