সরিষাবাড়ীতে স্বেচ্ছাশ্রমে ও নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত ৩১০ ফুট রৌহা নদীর উপর ‘কাঠের সেতু’


জামালপুর (সরিষাবাড়ী) প্রতিনিধি:
১৮ গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত দেড় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের জন্য জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ৩১০ ফুট দৈঘ্য এবং ৮ ফুট প্রস্থ্যের কাঠের সেতু। কাঠের সেতু নির্মানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। সরকারী বরাদ্ধ এবং উন্নয়ন বঞ্চিত সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ১৭/১৮টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করেছেন। ভৌগলিক কারনে গুরুত্বপূর্ণ রৌহা গ্রামের নদীর উপর কোন ব্রীজ না থাকার কষ্টের কথা কেউই কর্ণপাত করেননি। অবশেষে নিজেরাই নিজেদের অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করা হয়েছে রৌহা নদীর উপর কাঠের সেতু।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর রৌহা গ্রামের ভেতর দিয়ে ঝারকাটা নদী প্রবাহিত হয়েছে। চররৌহা, ছাতারিয়া, চর সরিষাবাড়ী, নান্দিনা, বাঘমারা, আদ্রা, চুনিয়াপটল, জামিরা, দীঘলকান্দি, কোনারপাড়া, মাজারিয়া, সেংগুরিয়া, আতামারি, সিধুলী, খামার মাগুড়া, খলিশা কড়িসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে বাঁশের সাঁকো এবং বন্যার সময় নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝারকাটা নদী পার হতে হয়। এ ছাড়া এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষিপণ্য এবং উপকরণ ক্রয় বিক্রয় করতে গিয়ে পরিবহন সমস্যায় পড়তে হয়। গর্ভবতী বা অসুস্থ নারী পুরুষদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়না বলে জানাগেছে। যে কারনে অসুস্থ রোগীদের স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বা হাতুড়ে ডাক্তারদের হাতে ছেড়ে দিতে হয়। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের জন প্রতিনিধিদের কাছে রৌহা নদীর উপর সেতু নির্মানের জন্য ধর্না দিলেও শুধু আশ^াস ছাড়া কিছুই মেলেনি। ফলে ভোগান্তি তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাড়ায়। সাতপোয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও চর রৌহা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ২০১৩ সালে স্কুলে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে দুই শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর (৭) ও তৃতীয় শ্রেণির আনিছ (৮) নামের দুই শিশু মারা যায়। অগত্যা গত ১ নভেম্বর গ্রামবাসী বৈঠকে বসে স্বেচ্ছাশ্রমে ও নিজেদের অর্থে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গত ৭ নভেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রতিদিন গ্রামের নারী-পুরুষ পালা করে কাজ করে কাঠের সেতু নির্মান শেষ করা হয়।

এ ব্যাপারে গ্রামের আবদুস সামাদ (৫৬) বললেন, ভোটের আগে যিনি ভোট চাইতে আসেন, তিনিই বলেন যে নির্বাচিত হলে সেতু নির্মাণ করে দেবেন। কত মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান-মেম্বার থেকে শুরু করে অনেকের কাছেই ধর্ণা দিয়েছি। কত ভোট গেল, সেতু হলো না। যোগাযোগ ভালো না হওয়ায় এই গ্রামের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যা হয়। কেউ এই গ্রামে বিয়ের সম্বন্ধ করতে আসতে চান না। সব মিলিয়ে গ্রামের মানুষ নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে কাঠের সেতু বানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কাঠের সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচল শুরু করেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রকৌশলী রকিব হাসান বলেন, ওই গ্রামে পাকা সেতু নির্মাণের প্রাক্কালন তৈরি করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানে হবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব উদ্দিন আহমদ মনে করেন, এমন মহৎ কাজ দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করবে।

Top
ঘোষনাঃ