শেরপুরে কৃষক ওয়ার্কশপে বিনা মহাপরিচালক : মঙ্গা-দারিদ্র দুরীকরণে ভুমিকা রাখছে স্বল্প জীবনকালের ফসল ॥


শেরপুর প্রতিনিধি :
দেশে প্রতিনিয়ত জমির পরিমাণ কমলেও বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। এমন পরিস্থিতিতে ফসল উৎপাদনে লাভজনক শস্যবিন্যাস প্রযুক্তি ও উন্নত জাত ব্যবহার করতে হবে। এক জমিতে ৩/৪ ফসল করা গেলে ফলন বাড়বে। এজন্য বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন ফসলের ১১২ টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। শেরপুরে ‘বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নতজাতের পরিচিতি’ শীর্ষক এক কৃষক ওয়ার্কপপে মুঠোফেনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে এমন কথা জানান বিনা মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। শেরপুর খামারবাড়ী মিলনায়তনে ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার দিনব্যাপী এ কৃষক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষকের আয় দ্বিগুন করার চিন্তা করছে সরকার। এজন্য এক বিঘা জমি (৩৩ শতক) থেকে কৃষক যাতে ৫০/৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারে তার চিন্তা করতে হবে। আমন মৌসুমে ১০৫ থেকে ১১৫ দিনে ঘরে তোলা যায় এমন জাতের বিনা ধান-৭, ১৬, ১৭ চাষ করার পর সেই জমিতে ৮০/৯০ দিনের ফসল বিনা সরিষা-৯ আবাদ করে বাড়তি আয় করা যায়। সরিষা কেটে বোরো মৌসুমে বিনা ধান-১২, ১৪, ২৪ চাষ করা যায়। এরপর আউশে বিনা ধান-১৯ আবাদ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন। তাছাড়া বিনা উদ্ভাবিত মুগ, মশুর, ছোলা, টমাটো, মরিচ, পেয়াজ, চিনাবাদাম, তিল চাষ করেও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। কিছুদিন পর পরই ফসল ওঠায় দরিদ্র মানুষ যেমন কাজ পাচ্ছে, তেমনি কৃষকরা ফসল বিক্রী করে নগদ অর্থ পাচ্ছে। বিনা উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালের এসব জাত সমূহ ইতোমধ্যে মঙ্গা ও দারিদ্র দূরীকরণে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ওয়ার্কশপের উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব করেন বিনা’র পরিচালক (গবেষণা) ড. হোসনে আরা বেগম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মাজেদ, শেরপুর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা এফএম মোবারক আলী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য উৎপাদন) সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ। বিনা ময়মনসিংহের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল মালেক এবং বিনা নালিতাবাড়ী কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুল আলম ওয়ার্কশপটি পরিচালনা করেন

। এসময় তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে অল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়া যাবে সেই বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করেন। একইসাথে বিনা উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে কৃষকরা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন সেসব বিষয়ে শুনে তার প্রতিকারে পরামর্শ প্রদান করেন। বিনা ময়মনসিংহ আয়োজিত এ কৃষক ওয়ার্কশপে জেলার ৩ উপজেলা সদর, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ৬০ জন কৃষক-কৃষানী ও মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

Top
ঘোষনাঃ