হারিয়ে যেতে বসেছে রহস্যময় শিমুল গাছ: রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রিতেবদন:
শেরপুরের নকলা উপজেলাধীন চরঅষ্টধর ইউনিয়নের রহস্যময় শিমুল গাছ। সবচেয়ে বৃহত্তম বেড় শিমুল গাছটি ঘিরে রয়েছে নানান ইতিহাস। ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে এইগাছকে। অযত্ন আর অবহেলায় বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে কয়েক’শ বছরের পুরনো গাছটি। বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের।

নকলা উপজেলায় নারায়ন খোলায় বিশালাকৃতির শিমুল গাছটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা হতে লোকজন আসে। গাছটির বয়স কয়েকশ বছর বলে এলাকা বাসী জানায়। গাছের কান্ডের পশ্চিম পাশ্বে হাতি সদৃশ্য এবং উত্তর পাশ্বে নৌকার বৈঠা ও সাপের সদৃশ্য। গাছটির যে কোন একটি শাখা ধরে নাড়া দিলে সমগ্র গাছ নড়ে ওঠে।

গাছটির ৮ থেকে প্রায় ১০০ ফুট উচু হবে। ৪২ গজ ব্যাসের এই গাছটির প্রায় এক বিঘা জমি জুড়ে অবস্থান। বিস্তৃত শিমুলগাছে সারাক্ষণই চলে পাখির কিচির-মিচির। কয়েক প্রজাতির পাখির আনাগোনা শুধু এই গাছকে কেন্দ্র করে।

প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছটি বেড়ে উঠেছেও প্রাকৃতিকভাবেই। বেড়শিমুল গাছটি এতটাই ঘন ছিল যে এর নিচে রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশা পড়ত না। প্রচণ্ড গরমের সময়ও গাছের নিচে থাকত ঠাণ্ডা। পথিক, কৃষক থেকে শুরু করে নানা পেশা-বয়সী লোকজন গাছের তলায় শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিত। দুপুর ও বিকালে দেখা যেত ডালে ডালে শুয়ে ঘুমাচ্ছে মানুষ।

গাছটি যার জমিতে আছে তিনি তার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছেন এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু কেউ বলতে পারেনা এর জন্মলগ্নের সঠিক ইতিহাস।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস আলী বলেন, আমি বাপ দাদার কাছ থেকে শুনছি এই বেড় শিমুলের বয়স কমপক্ষে ৪’শ বছর হব। আবার অনেকেই বলে, গাছটির বয়স ৫’শ বছরের মত হব।

জনশ্রুতি আছে, অনেকদিন আগে গাছটি বিক্রি করা হয়েছিল। লোকেরা গাছের একটি ডাল কাটতেই নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত আসতে শুরু করে। তারপর থেকে গাছের মালিক আর গাছ বিক্রি করেনি, কেউ কিনতেও আসে না।

এছাড়াও জনশ্রুতি আছে যে, গরীব দুঃখির বিয়ের সময় নাকি বিবাহের কথা বললে, কাশার থালা, বাসন, ঘটি-বাটি ইত্যাদি কিছুক্ষণ পর গাছের নিচে পাওয়া যেতো। আবার কাজ শেষে সমস্ত জিনিস ফেরত দিতে হতো, যদি কেউ লোভ করে দুই একটা জিনিস রেখে দিতো তবে অদৃশ্য ভাবে ভয় ভীতি দেখানো হতো। তাই মানুষের লোভের কারনে এ জিনিস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। জীবনের চলার পথে বিপদে আপদে এই গাছের নিচে মান্নত করলেও নাকি উপকার পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, চারিদিকে খোলামেলা পরিবেশ থাকায় ধীরে ধীরে পিকনিক স্পট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। এই বেড় শিমুল গাছের নিচে চলচ্চিত্রের শুটিংও হয়েছিল। খ্যাতিমান অভিনেতা অমিত হাসান, আলিরাজ, আনোয়ারা, জয়, জাবেদসহ আরও অনেকেই এখানে শুটিং করার জন্য এসেছেন।

অনেক দূর দুরান্ত থেকে লোকজন আসে এই গাছটিকে দেখতে, ছুটির দিনে এই বেড় শিমুল গাছটিকে দেখতে আসে অনেকেই, সপ্তাহে প্রতিদিন না হলেও ছুটির দিনে এই গাছটির ছায়ার নিচে বসে সারাদিন ও কাটিয়ে দিয়েছেন অনেকেই।

এখন গাছটির ডালপালা ভেঙ্গে পরে যাচ্ছে, আর আগের মত সেই দর্শনার্থীদের ও দেখা যাচ্ছে না, পরিবেশ টা যেনো দিন দিন মরে যাচ্ছে, স্থানীয় লোকজন সহ দর্শনার্থীরা এটি সংরক্ষণের জন্য দাবি জানিয়েছেন।
প্রাচীন এই গাছটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে শেরপুরের পর্যটনে যোগ হবে নতুন মাত্রা, দাবি স্থানীয় লোকজনসহ দর্শনার্থীদের।

Top
ঘোষনাঃ