“ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস” কিছু কথা- মো. ইমাম হোসেন ঠান্ডু


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর সারা বিশ্ব ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য দিবসটি “বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস” হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এ বছরের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের থিম হচ্ছে ‘নার্স ও ডায়াবেটিস’ অর্থাৎ ডায়াবেটিস সেবায় পার্থক্য আনতে পারেন নার্সরাই। ‘শৃংখলাই জীবন’ এই মূলমন্ত্র নিয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৫৬ সনে ডা: মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে মহান ব্যক্তিটির উদ্যোগে। হাটি হাটি পা-পা করে মহান ব্যক্তিটি হয়ে উঠেছিলেন এই উপমহাদেশের পথিকৃৎ। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পথিকৃৎ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ডা: মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি ছোট্ট টিনসেডে ১৯৫৬ সনের ২৮ ফেব্রুয়ারী যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁর এই পথচলা সারা বিশ্ব নাড়া দিয়েছে। এখন বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষক বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে বিশ্ব সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রতিবছর যথাযোগ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। আজ সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ে চলছে নতুন নতুন প্রচেষ্টা। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪২.৫ কোটি। এর তিন চতুর্থাংশ বাস করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশসমূহে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটির বেশি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। এই ভয়াবহতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন এবং এ রোগ নিয়ন্ত্রণের অভাবে ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অসংখ্য লোক অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

এখন আমাদের জানতে হবে ডায়াবেটিস কি? ইনসুলিন নামক এক প্রকার হরমোনের অভাব হলে কিংবা উৎপাদিত ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তের গ্লুকোজ দেহের বিভিন্ন কোষে প্রয়োজন মত ঢুকতে পারে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিকেই ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস প্রধানত দু’ধরণের। টাইপ-১ ও টাইপ-২। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সীদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস দেখা যায়। এ ধরণের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয় না। বেঁচে থাকার জন্য এসব রোগীদের ইনসুলিন নিতেই হয়। টাইপ-১ রোগীর সংখ্যা এদেশে তুলনামূলকভাবে কম।

টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যাই বেশি।, প্রায় ৯০% থেকে ৯৫%। এদের শরীরের ইনসুলিন নিস্ক্রিয় থাকে। ইনসুলিনের ঘাটতি থাকে। এ ধরণের রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যাভাস পরিবর্তন ও নিয়মতি ব্যায়াম অপরিহার্য। প্রয়োজনে কাউকে কাউকে খাওয়ার বড়ি ও ইনসুলিন নিতে হতে পারে। বর্তমানে নগরায়নের ফলে পরিবর্তিত জীবন যাপনের কারণে সারা বিশ্বেই ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে বৃদ্ধির এই হার উন্নত দেশগুলির তুলনায় অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশে বেশি। টাইপ-২ রোগীদের ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে:-
১। কায়িক পরিশ্রম না করা।
২। মোটা বা স্থুলকায় হয়ে যাওয়া।
৩। অতিমাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া ও কোমল পানীয় (সফ্ট ড্রিংকস) পান করা।
৪। অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
৫। ধুমপান করা ও তামাক খাওয়া।
৬। গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা।
৭। পারিবারিক জিন থেকে।
তবে আশার বিষয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সেবা দ্বারপ্রান্তে পেয়ে সেবা গ্রহণ করছে। ডায়াবেটিস যেমন নিরব ঘাতক ব্যাধি তেমনি নিয়মিত চিকিৎসা ও খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকা সম্ভব। তাই আপনি সচেতন হউন, নিয়মিত সেবা গ্রহণ করুন।
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ: অতিরিক্ত প্রস্রাব, প্রচন্ড তৃষ্ণা, প্রচুর ক্ষুধা, ওজন কমতে থাকা, ক্লান্ত লাগা, গা চুলকানো, চোখে অস্পষ্ট দেখা, মহিলাদের ঋতুচক্রের পরিবর্তন, কেটে গেলে না শুকানো, খোশ-পাচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি চর্মরোগ দেখা দেওয়া।

মনে রাখবেন ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিস সম্পর্কে প্রতিটি মানুষের জ্ঞান থাকা ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরী। ডায়াবেটিস সচেতন হউন দীর্ঘ সময় সুস্থ জীবন যাপন করুন।

লেখক: আইনজীবী ও সাধারণ সম্পাদক, শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি।

Top
ঘোষনাঃ