শেরপুরে আমন ধান কাটা শুরু ॥ ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

বিশেষ প্রতিবেদন:
চলতি রোপা আমন মওসুমে শেরপুর জেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১শ হেক্টর বেশী জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা। কৃষকরা ফলনও পাচ্ছে ভালো। এজন্য কৃষকের মুখে হাসি দেখা যাচ্ছে।
শেরপুর জেলায় তিন দফার বন্যায় জেলায় কৃষি বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ২৫ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকার ফসল। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় জেলার ২০ হাজার ৫শ ৫০টি কৃষক পরিবার। কৃষকরা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নিজেরাই ঝাপিয়ে পড়ে আমন ধানের চাষ করতে। জেলায় ৯২ হাজার ৪শ ৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এ বছর শেরপুর জেলায় ৯১ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করার জন্য লক্ষমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। এবার পোকা মাকড়ের আক্রমন না থাকায় ফলনও ভাল হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে ধান কাটাও। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
ধানের ফলনও ভালো হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। অপরদিকে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরাও খুব খুশি। এছড়া ধানের খড়ও এখন গো খাদ্য হিসেবে বেশী দামে বিক্রি করতে পারছে কৃষক।
ঝিনাইগাতীর বন্দভট পাড়ার কৃষক আব্দুল হাই জানান, আমরা পায়জাম ধানের আবাদ করেছিলাম। ধান পেকেছে, ধান কাটা শুরু করেছি। ফলনও ভাল পাচ্ছি। দামও বেশ ভালো। একই এলাকার কৃষক আশরাফুল জানান, আমি দানিগুল ধানের চাষ করেছি। এ ধান আগাম পাকে। ধান পেকেছে। কাটতে শুরু করেছি। এবার ধানের ফলন ভালই পাচ্ছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড: মুহিত কুমার দেব জানান, এবার শেরপুর জেলায় আমন ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩লক্ষ ৬৬ হাজার ৭শ মেট্রিক টন ধান। জেলায় বেশী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পোকা-মাকড়ের আক্রমন নেই। ফলে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।

Top
ঘোষনাঃ