সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন শেরপুর

পাশাপাশি মসজিদ-মন্দিরে চলে আসছে পূজা প্রার্থনা আর ইবাদত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শেরপুর জেলা হচ্ছে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি জেলা। এ জেলাতে প্রতিটি ধর্মের মানুষ একে অপরের ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি অংশ নিয়ে সহায়তা করে থাকে। একই স্থানে মসজিদ মন্দির থাকলেও নেই কোন বিরোধ। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমেই চলছে ধর্মীয় কার্যাবলী।

বৃটিশ শাসন আমল থেকেই এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন একটি বড়স্থান জুড়ে আছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে মসজিদ আর মন্দির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা হলেও নেই কোন দ্বন্দ, বিরোধ বা কলহ। জেলার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী মাই সাহেবা জামে মসজিদের নিকটেই অবস্থিত শ্রী শ্রী মদন গোপাল মন্দির। শত বছর ধরে এ দুই ধর্মীয় উপসনালয়ে একদিকে ইবাদত অপরদিকে পূজা-পর্বন প্রার্থনা চললেও নেই কোন দ্বন্ধ বা সাম্প্রদায়িক সমস্যা। বরং একে অপরের সাথে ভ্রাতিত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে চালিয়ে যাচ্ছে ধর্মীয় কার্যক্রম।

একই অবস্থা শহরের নয়ানী বাজারের মাছ হাটির উপরে রয়েছে একটি মসজিদ। ঠিক তার নীচেই চলছে দূর্গা পূজা। পাশ্বেই নয়ানী বাজার মা ভবতারা মন্দির। পৃথকভাবে এখানেও চলছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি। বিরোধতো দূরে থাক স্থানীয় মুসলমান নরনারী সহায়তা করে থাকেন পূজা উদযাপনে।

শ্রীশ্রী মদন গোপাল মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা জানালেন, আমরা আমাদের পূজা করছি, আর ওনারা ওনাদের ধর্মীয় কাজ করছেন। আমাদের মধ্যে কোন সমস্য নেই।

নয়ানী বাজারের পূজারী প্রদীপদে জানালেন, আমাদের মন্ডপের ওপরেই মসজিদ আছে এতে আমাদের কারোর মধ্যে কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমরা ভ্রাতিত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে চলছি।

মুসুল্লি মুনসর আলী জানান, আমরা যারযার ধর্মীয় কাজ করছি কোন সমস্য হচ্ছে না। আমাদের মধ্যে আছে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক।

জুবায়দা জনি জানালেন, মসজিদ এবং মন্দির দুটিই আমাদের বাসার সাথে। আমরা পূজাতে হিন্দুদের সাথে সহায়তা করে আসছি। আমাদের সাথে কখনই সম্পর্ক খারাপ হয়নি।

কারো বিরুদ্ধে নেই কারোর কোন অভিযোগ। বরং শোনা গেল সম্প্রীতির ভিন্ন কথা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও দান করেন মসজিদে আর ইমাম সাহেবের কাছে দোয়া নিতে যান নানা সমস্যায় পড়লে। এমনটাই জানালেন মাই সাহেবা জামে মসজিদের ঈমাম মাওঃ মোঃ মোতাসিম বিল্লাহ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট সুব্রত কুমার দে ভানু জানালেন, শেরপুর জেলা একটি শান্তিপূর্ণ জেলা। এখানে খুব সুন্দর সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হচ্ছে। এটা এ জেলার একটি কালচার।

শতশত বছর ধরেই শেরপুর জেলায় মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের চমৎকার সম্প্রীতির মনোভাব নিয়ে বসবাস করে আসছেন। বাবরী মসজিদ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা হলেও শেরপুর ছিল ভিন্ন। আর এ অবস্থা চলবে যুগযুগ ধরে। এমন প্রত্যাশাই সবার।

Top
ঘোষনাঃ