শ্রীবরদীতে জলকেশর বিলের মাছ লুটের অভিযোগে মামলা দায়ের

রানা, শ্রীবরদীঃ
শেরপুরের শ্রীবরদীতে জলকেশর বিলের মাছ ও মাছ ধরার সরঞ্জাম লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ যাবত ২০/২৫ জনের একটি চক্র দলবদ্ধ ভাবে জোর করে বেড় জাল দিয়ে ওই বিলের মাছ, জাল, নৌকা ও টং ঘর লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তুলে শেরপুর আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে ভূক্তভোগীরা। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতিদিন দফায় দফায় বিলে হামলা চালিয়ে লুটপাটের ঘটনায় চরম ক্ষতি আশংকা করছেন ওই মৎসজীবি সমবায় সমিতির সদস্য সহ স্থানীয় মৎস্যজীবিরা। জলকেশর রায় বিলের ইজারাদার একতা সমবায় সমিতি। ওই সমিতির মাধ্যমে বিলে দেশী জাতের মাছের চাষ করেন তারা। এতে বছরের বেশী ভাগ সময় শতাধিক মৎস্যজীবি মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এছাড়াও ওই বিলের মাছ স্থানীয় ভাবে চাহিদা মিটিয়েও বছরে লাখ লাখ টাকার মাছ জেলা শহর সহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। গত ২ সপ্তাহ যাবত ওই বিলের পাশের বনপাড়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন আলাল মিয়া, ইস্রাফিল, নান্ডু মিয়া, আব্দুল ওয়াহাব, সামাদ আলী, আব্দুল সালাম, সবুজ মিয়া সহ সংগবদ্ধ একটি চক্র আগাম ঘোষণা দিয়ে লাঠিসোঠা ও বেড় জাল নিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এসময় মৎস্যজীবিরা বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাছ লুটের মহা উৎসব চালায় তারা।

এসব অভিযোগ তুলে দ্রুত বিচার আইন আদালতে ওই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি বলেন, ওই চক্রটি বিলের মাছ, মাছ ধরার নৌকা ও পাহাড়া দেওয়ার একটি ঘর লুট করে নিয়ে গেছে। এখনো মাছ লুটের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় তাতিহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ বিল্লাল কে অবগত করলে তিনি তাদেরকে নৌকা, জাল ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা তা মানছে না। এ ব্যাপারে জলকেশর রায় জলমহালের ত্রাস সৃষ্টি করে লুটতরাজ ও ক্ষয়ক্ষতি সরে জমিনে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে শ্রীবরদীর ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ভূক্তভোগীরা।

শ্রীবরদী থানার ওসি রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শ্রীবরদীর সহকারী কমিশনার ভূমি মঞ্জুর আহসান বলেন, ওই বিলের ইজারাদরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Top
ঘোষনাঃ