শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নানা দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে কলেজ অধ্যক্ষ সাময়িকভাবে বহিস্কার


স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইগাতী:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সীমাহীন জাল-জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য, ও অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত জামায়াত সমর্থক বহুল আলোচিত ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করেছে ওই কলেজের গভর্নিং বডি। ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কলেজের গভর্নিং বডির সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ ১২ সেপ্টেম্বর ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলিম উল রেজা নিক্সনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিসয়টি নিশ্চিত করেন কলেজের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওয়ারেছ আলী নাঈম।
এর আগে ওই অধ্যক্ষকে অপসারণ ও বিচার করার দাবিতে মানব বন্ধনসহ নানা আন্দোলনে করে এলাকাবাসী। ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে প্রশাসনও।
জানাযায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী আদর্শ ডিগ্রি মহিলা কলেজে শিক্ষক বিধি মোতাবেক নিয়োগ পেয়ে ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে পিআর মাহুমুদ রাহুল ৮ বছর চাকুরী করেও সম্প্রতি কলেজটির ডিগ্রি শাখায় এমপিওভূক্ত হলে সেই তালিকায় ঠায় হয়নি তার। তার স্থলে এমপিও হয়েছে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বেগ ডেইটে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া আবু হানিফ নামের একজনকে। যাকে কেউ আদৌ চিনে না।
একই অবস্থা ওই কলেজের দর্শন বিভাগে ২০১৫ সালে নিয়োগ পাওয়া প্রভাষক যমুনা বেগমের ক্ষেত্রেও। তার কাছে ১৫ লাখ টাকা চেয়ে না পেয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার কাতুলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা বেগমকে ভূয়া নিয়োগ দেখিয়েছেন। একই অবস্থায় আরো দুইজন সরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীকেও অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের নিবন্ধনসহ অন্যান্য কাগজ জালজালিয়াতি করেছেন।
অধ্যক্ষ নিজেও তার কাগজ জালিয়াতি করে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন সাবেক সভাপতিগন। তার স্ত্রী এইচএসসি পাস হওয়া সত্বেও তাকে অবৈধভাবে ভূয়া কাগজ দেখিয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগও। জালজালিয়াতি নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা দূর্ণীতি করে হয়ে ওঠেছেন কোটি টাকার মালিক। জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর ভাষনকে আইয়ুবের শাসনের সাথে তুলনা করে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন এ জামাত সমর্থিত এ অধ্যক্ষ। তাই শিক্ষক ও এলাকাবাসীরা তার অপসার দাবীতে করেছেন মানব বন্ধন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনও তদন্তে নামে মাঠে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতাও পান তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ। কদন্ত থেকে বাচঁতে কাগজ পত্র চুরির নাটকও সাজিয়েছিলেন ওই অধ্যক্ষ। যা তদন্ত কমিটির কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।
এ বিষয়ে কলেজের সভাপতি সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওয়ারেছ আলী নাঈম মুঠো ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, আমরা অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানকে ৭দিনের সময় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সাথে বিধি মোতাবেক কলেজের সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক আলিম উল রেজা নিক্সনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হযেছে।

উল্লেখ্য ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ইনডিপেনডেন্ট টিভি, অনলাইন চারুবার্তা২৪.কম ও নতুনযুগসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় একাধিক খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি টক অবদ্যা ডিস্ট্রিক্ট এ পরিনত হয়।

Top
ঘোষনাঃ