নকলা উপজেলা পরিষদ মসজিদের মুয়াজ্জিনের ওপর দৃর্বৃত্তের হামলা! জড়িত সন্দেহে আটক-১


নকলা, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় আব্দুল লতিফ (৬০) নামে এক মুয়াজ্জিনের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ফজর নামাজের আযান দেওয়ার উদ্দেশ্যে নকলা পৌর শহরের বাজারদী এলাকার নিজের বাড়ি থেকে মসজিদে আসার পথে কায়দা-বাজারদি গোরস্থান সংলগ্ন নকলা-চন্দ্রকোনা পাকা সড়কের ওপর এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে আহতের আপন ভাতিজা স্বপন মিয়া (২৫) কে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে থানা পুলিশ। স্বপন মিয়া আব্দুল লতিফের ভাই আব্দুল বারীর ছেলে। আহত আব্দুল লতিফ বাজারদী এলাকার মৃত আবেদ আলীর ছেলে, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে নকলা উপজেলা পরিষদ (টিটিসি) জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ শুক্রবার ভোরে ফজর নামাজের আযান দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেড় হন। এর কিছুক্ষণ পরে কে বা কারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এতে তাঁর মাথায় আন্তত ১৫ টি ও কপালে ৫টি সেলাই দেওয়ার মতো কাটা জখম করে; তাছাড়া বাম হাতের কব্জি কেটে ঝুলে গেছে। পরে এলাকাবাসির সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে নকলা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আব্দুল লতিফের অবস্থা আশংকাজনক বলে মোবাইল ফোনে জানান তার সাথে থাকা স্বজনরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহতের ভাই আব্দুল বারীর ছেলে তথা আব্দুল লতিফের ভাতিজা স্বপন মিয়া (২৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহ জনক ভাবে আটক করেছে থানা পুলিশ।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এ বিষয়ে নকলা থানায় অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরই মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নকলা থানার পুলিশ।

ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা দোকানের সিসি টিভির ভিডিও ফোটেজ সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান।

এ ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খোঁজ করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবেনা বলে দাবী এলাকাবাসীর।

Top
ঘোষনাঃ