করোনার বাস্তবতা

লেখক : আবু রাশেদ মোঃ বাকের

প্রিয় সুধী,
আমরা আপনারা সবাই জানি, সারাবিশ^ আজ করোনা ভাইরাস নামক এক অজানা-অচেনা প্রাণঘাতী ভয়ংকর শত্রুদ্বারা আক্রান্ত। যুগযুগে কালেকালে মানবজাতি বিভন্ন রোগব্যাধি, মহামরি, খড়া, বন্যা, ভূমিকম্প, যুদ্ধ বিগ্রহ ও প্রতিক’ল পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে মোকাবেলা করে সভ্যতার এ পর্যায়ে এসেছে। তবে পূবেকার আপদবিপদ ও বালামছিবতের সাথে চলমান এ মহামছিবত এর মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যামান।
আর সেগুলো হল:- ইতিহাসের পাতায় – নূহের বন্যা, নমরুদের জন্য আল্লাহ‘র প্রেরিত মশক বাহিনী, লূতের উম্মতের পাপাচারে করুন পরিনতি, খোদায়ি দাবিদার ফেরাউনের সলিল সমাধি, মায়া সভ্যতার বিষ্ময়কর উন্থান-পতন, ঘুমন্ত বিষোভিয়াসের মহাবিস্ফোরণ, আবরাহার হস্তিবাহিনী ধ্বংসে আল্লাহ‘র প্রেরিত আসমানি সৈনিক আবাবিল, মধ্যযুগে আল্লাহ‘র মূতিমান অভিসাপ, চেঙ্গিস খানের লাশের ককেশাস পর্বতমালা, রক্তের প্রবাহিত ভলগা, উল্লিখিত আযাব-গযব মহামারি সবই ছিল আঞ্চলিক, এলাকা ভিত্তিক ও সম্প্রদায়গত, এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সে জন্য বিরাজমান অবস্থা হতে বাঁচার আশায় মানুষ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ কে আক্রান্ত এলাকা হতে পলায়ন বা প্রস্থান করেজীবণ বাঁচাতে ও বাঁচাতে চেষ্ঠাকরতে পারতো। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের আক্রমণ হতে আতœরক্ষার কোন নিরাপদ স্থান নেই। এর আক্রমণের বিচরণ ক্ষেত্র বিশ^মানচিত্র, রাজপ্রাসাদ হতে দিনমজুরের পর্ণকুটির পর্যš বিস্তৃত যা এর আগে কখনও দেখা যায় নি।ইেন একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করার কোন বিন্দুমাত্র সুযোগ। সবাই নিজনিজ স্থানে ভীত, আতংকিত। বিশ^বাসি ইতোমধ্যে অবাক বিস্ময়ে জেনেছে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সিংহাসনে আসীন রাণী এলিজবেথ ও তার উত্তরাধিকারি যুবরাজ চার্লস এবং খোদ বৃটেন এর প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ভাইরাসে আক্রান্ত,আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে বিশে^র অনেক রথি-মহারথিসহ দশ লক্ষাধিক মানব সন্তান এবং আক্রানেÍর সংখ্যা দ্রুত ক্রমবর্ধমান। আরেকটি বিষ্ময়ের ব্যাপার হলো আধুনিকসভ্যতার সীমাহীন উন্নতি অভাবনীয় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও ভয়ংকর সব মারণাস্ত্র, সাবমেরিন, যুদ্ববিমান, ড্রোন, এগুলো কিছুই মানবজাতির আতœরক্ষার কোন কাজে আসছে না। আধুনিক সভ্যতার দাবিদার বলদর্পি ইউরোপ তথা কথিত পরাশক্তি খোদ আমেরিকা সৃষ্টিকর্তার কাছে কত অসহায় কত নিরুপায় তার প্রকৃষ্ট নজীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কভিট-১৯, আহা…..বেচারা..ট্রাম্প। আজ একি হাল বিশ^ ত্রাশ হিটলারের জার্মানির, মসোলিনির ইতালির। বলতে গেলে অতীতের কোন বালামছিবত মানবজাতিকে এতটা কোণঠাসা করতে পারেনি যা করেছে কভিট-১৯। থমকে গেছে আধুনিক সভ্যতার গতিধারা, চলমান বিশ^ ব্যবস্থা, প্রচন্ড ঝাকুনি খেয়েছে লালিত চিন্তা ও চেতনায়। বর্তমান বিশে^র ৮০০শত কোটি মানব সন্তানের একজন সদস্যও কভিট-১৯ এর আক্রমণ থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারছে না। কোরআনের পরিভাষায় একেই বলে…“ইন্না বাত,শা রব্বিকা লা-শাদিদ” অথাৎ নিশ্চয়ই তোমার প্রভুর পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন, লন্ডন ও নয়াদিল্লি ভিত্তিক বিশ^স্ত একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে উপমহাদেশ বিশেষ করে ভারতে কভিট-১৯এর আক্রমণের সম্ভাবনার যে চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাকে ভয়াবহ বললেও কম বলা হবে। আল্লাহ মাফ করুন, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশও সে রিপোর্ট এর বাইরে নয়। আমি মনে করি আরেকটি বিষয় এখানে বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে আর তা হল- আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার সুস্পস্ট ব্যবধানে, কাজেই এ কথা সহজেই বলা যায়, আল্লাহ আমাদের সাবধান করেছেন তার দিকে প্রত্যাবর্তনের জন্য। এ ব্যাপারে কোরআন পাকের একটি আয়াত খুবই তাৎর্পর্যপূর্ণ আর তা হল আল্লাহ তা’লা বলেন “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দানের পূর্বে হালকা শাস্তি দান করব, যাতে তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তন কর” ( সূরা-সাজদা, আয়াত ২১)। তবে আশার কথা হল আমরা অর্থাৎ মুসলমানরাই, বর্তমান বিশে^ কালেমার পতাকাবাহীদল আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। আল্লাহ তা’লা পবিত্র কোরআন এ মুমিদের ভীত ও শংকিত হতে শক্তভাবে নিষেধ করেছেন এবং বিজয়ের সুস্পস্ট ওয়াদা দিয়েছেন। অনুরুপভাবে আমাদের মত পাপী বান্দাদের নিষেধ করেছেন তার সিমাহীন রহমত থেকে নিরাশ হতে। সে সাথে ঘোষণা দিয়েছেন “আমাদের কৃত সমস্ত অপরাধসমূহ ক্ষমার, যেহতু তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান”……। এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার, আর তা হল যেহেতু কিয়ামতের পূর্বে ঈসা মসিহ্ ও প্রতিশ্রুত ইমাম মাহাদীর আগমন অনিবার্য, সেহেতু বলা যায় বিশ^ ব্যবস্থার দ্রুত পটপরিবর্তনে তাঁদের অবতরণের ক্ষেত্রেও প্রস্তুত প্রায় এবং তাদের নেতৃতে¦ বিশ^ব্যাপি ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত। সুতরাং এ মুহূতে মুসলিম উম্মাহ অস্তিস্ত সংকটের চিন্তা মুক্ত। এই দু মহাপুরুষের আগমণ নিয়ে মাটির পৃথিবীতে চলছে তোলপাড়, আর আধ্যাতিক জগত তথা আসমানে হইত চলছে মহাপ্রস্তুতি।আসুন আমরা সকলে নিজনিজ স্থান হতে কৃতগুনাহ এর জন্য আল্লাহ তা’লার নিকট খাটি তৗবা করি এবং বিনয়ের সাথে তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। যেহেতু আমরা তাকদির ও মৃত্যুর নিদিষ্ট সময় এবং ক্ষণে বিশ^াসী, কাজেই যেকোন মৃত্যুই মুসলমানের স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধরে নেয়া যায়। সে সাথে আকস্মিক ও মহামারিজনিত মৃত্যু মুমিনদের জন্য শহীদি মর্যাদার বাড়তি পাওনা, এ মুহূর্তে আমাদের আশুকরণীয় ইসলামী শরীয়ত নির্দেশিত ও বিজ্ঞান সম্মত নিয়ম-কানুন নিষ্ঠার সাথে পালন করে ইমামী চেতনায় দ্বীপ্ত কন্ঠে আওয়াজ তুলি কভিট-১৯ আমরা তোকে ভয় পাইনা।
“নাছরুমমিনাল্লাহি ও ফাতহুনকারির”…. আমিন।
আবু রাশেদ মোঃ বাকের
( পীর সাহেব)
খানকায়ে সিদ্দিকীয়া, যোগিনীমুরা,
শেরপুর সদর, শেরপুর

Top
ঘোষনাঃ