শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণপূর্বক ধর্ষণ ও সৎ শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও জরিমানা

index

বিশেষ প্রতিনিধি :
শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণপূর্বক ধর্ষণ ও সৎ শাশুড়িকে হত্যার দুটি পৃথক মামলার রায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান স্কুলছাত্রীকে অপহরণপূর্বক ধর্ষণ এবং  অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন সৎ শাশুড়িকে হত্যা মামলায় এ দ- প্রদান করেন।
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় দ-প্রাপ্ত আসামির নাম শাহজামাল ওরফে শাহআলম (২৭)। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার চৈতাজানী (জামতলী) গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। আদালত একইসঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই টাকা ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলছাত্রীকে প্রদানের আদেশ দেন আদালত। অপরদিকে সৎ শাশুড়িকে হত্যা মামলায় দ-প্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম (৩৩)। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার ধোবারচর গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে। আদালত একইসঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের সশ্রম কারাদ- প্রদান করেন।
দুটি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রউফ ও শেখ ফরিদ আহমেদ এসব দ-াদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২০ জুন দুপুরে শ্রীবরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে উপজেলার চৈতাজানী (জামতলী) গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে দ-প্রাপ্ত আসামি শাহজামাল সুকৌশলে ছাত্রীটিকে তাঁর (শাহজামাল) বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তিনি (শাহজামাল) ছুরি দিয়ে খুন করার ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিস্কুট ও পানি পান করান। এতে ছাত্রীটি কিছুটা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় আসামি শাহজামাল ছাত্রীটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ছাত্রীটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পরিবার তার সন্ধান পায়নি। পরে ২০১১ সালের ২৩ জুন দুপুরে একটি অটোরিকশা এসে ছাত্রীটিকে তার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন দেখতে পান, ছাত্রীটির চুল কাটা এবং মাথা ন্যাড়া। পড়নে বিদ্যালয়ের পোশাকের পরিবর্তে অন্য কাপড় রয়েছে। এ সময় ছাত্রীটি অসুস্থ ছিল এবং সে কথাও বলতে পারছিল না। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০১১ সালের ২৫ জুন সে (ছাত্রী) পরিবারের নিকট সব ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২৬ জুন ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটির বাবা বাদী হয়ে দ-প্রাপ্ত আসামি শাহজামালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্তশেষে শ্রীবরদী থানার তৎকালিন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহুর আলী ২০১১ সালের ১৫ অক্টোবর আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দেন ছাত্রীটির বাবা। এরপর আদালত শুধুমাত্র আসামি শাহজামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলার বিচার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণশেষে আদালত গতকাল আসামি শাহজামালকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম কিবরিয়া ও আসামি পক্ষে মো. সিরাজুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।
অপরদিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ৭ মে দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার ধোবারচর গ্রামের বাড়িতে দ-প্রাপ্ত আশরাফুল ইসলাম তাঁর সৎ শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) ধারালো ছুরি দিয়ে পিঠে উপুর্যপরি আঘাত করেন। এতে ফরিদা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় ফরিদার ভাই আব্দুল ওয়াহাব বাদী হয়ে আশরাফুলের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তশেষে থানার তৎকালিন এসআই বশির আহমেদ ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আশরাফুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণশেষে আদালত গতকাল উপরিউক্ত দ- প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ইমাম হোসেন ও আসামি পক্ষে নারায়ণ চন্দ্র হোড় মামলাটি পরিচালনা করেন।

Top
ঘোষনাঃ